রুকইয়াহ কী ও এর শারঈ নীতিমালা
কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে রুকইয়াহ শারইয়্যাহর পরিচয়, আবশ্যিক শর্তসমূহ এবং কুসংস্কার ও শিরক থেকে বাঁচার পথনির্দেশ।
রুকইয়াহ কী? (What is Ruqyah)
'রুকইয়াহ' (الرقية) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ঝাড়ফুঁক বা আশ্রয় প্রার্থনা করা। ইসলামিক পরিভাষায়—কুরআনুল কারীমের আয়াত, আল্লাহর আসমাউল হুসনা (সুন্দর নামসমূহ) ও গুণাবলী এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণিত সহীহ দোয়াসমূহ পাঠ করে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য আরোগ্য ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করাই হলো রুকইয়াহ শারইয়্যাহ।
শারঈ রুকইয়াহর ৩টি আবশ্যক শর্ত
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) আলেমদের সর্বসম্মত ৩টি মূল শর্ত উল্লেখ করেছেন:
আল্লাহর কালাম ও আসমাউল হুসনা দ্বারা হওয়া
তিলাওয়াত অবশ্যই পবিত্র কুরআনুল কারীমের আয়াত অথবা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণিত সহীহ দোয়ার মাধ্যমে হতে হবে।
স্পষ্ট ও বোধগম্য আরবি ভাষায় হওয়া
ঝাড়ফুঁকের প্রতিটি শব্দ বোধগম্য হতে হবে। কোনো প্রকার অস্পষ্ট ফিসফিসানি, দুর্বোধ্য চিহ্ন বা অপরিচিত সংকেত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল থাকা
এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে রুকইয়াহর নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই; আরোগ্য বা শেফা দেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা আল্লাহর হাতে।
আমাদের সমাজে ঝাড়ফুঁকের নামে অনেক বিদআত ও শিরকি কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে আছে। নিচের বিষয়গুলো রুকইয়াহর অন্তর্ভুক্ত নয়:
কারা রুকইয়াহ করতে পারেন?
রুকইয়াহ কোনো বিশেষ পেশা বা বংশগত অলৌকিক ক্ষমতা নয়। প্রত্যেক সচেতন মুসলিম নিজেই নিজের ওপর এবং পরিবারের ওপর রুকইয়াহ করতে পারেন।
১. সাধারণ সেলফ-রুকইয়াহ:
ঈমানদার যেকেউ সহীহ নিয়ত, অযু ও তাওবাহর মাধ্যমে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী ও ৩ কুল পড়ে নিজের গায়ে ফুঁ দিতে পারেন।
২. শারঈ রাক্বী (চিকিৎসক):
জটিল পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ আলেম বা শারঈ রাক্বী সাহায্য করতে পারেন যিনি দ্বীনদার, মুত্তাকী এবং কুরআনের সহীহ জ্ঞানসম্পন্ন।
নিজেই নিজের রুকইয়াহ শুরু করতে চান?
আমাদের ৭ ধাপের ধারাবাহিক সেলফ-রুকইয়াহ গাইড পড়ে খুব সহজেই ঘরে বসে আমল শুরু করতে পারেন।
সেলফ-রুকইয়াহ গাইড পড়ুন