সহীহ হাদিস ভিত্তিক আমল

মাসনুন দোয়া ও হিফযের আযকার

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণিত সহীহ দোয়াসমূহ যা মানুষের আত্মরক্ষা ও সকল বিপদাপদ থেকে হেফাজতে আল্লাহর সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে।

প্রতি সালাতের পর ও ঘুমানোর আগে ১ বারসূরা আল-বাকারা: ২৫৫ | সহীহ বুখারী: ২৩১১

আয়াতুল কুরসী (সর্বশ্রেষ্ঠ সুরক্ষামূলক আয়াত)

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম...
অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়...
ফজিলত: যে ব্যক্তি রাতে এটি পাঠ করে, সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সংরক্ষক তাকে পাহারা দেয় এবং শয়তান তার কাছেও ঘেষতে পারে না।
সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বারসুনানে আবু দাউদ: ৫০৮৮ | জামে তিরমিযী: ৩৩৪৭ (সহীহ)

সকল ক্ষতি থেকে বাঁচার বিশেষ দোয়া

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস-সামা-ই, ওয়াহুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম।
অর্থ: আল্লাহর নামে (শুরু করছি), যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।
ফজিলত: যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার পাঠ করবে, কোনো বিপদ বা বিষাক্ত কীট তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
সন্ধ্যায় ও যেকোনো স্থানে নামার সময় ৩ বারসহীহ মুসলিম: ২৭০৮

মাখলুকের অনিষ্ট ও বিষাক্ত প্রাণী থেকে আশ্রয়

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা খালাক্ব।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যসমূহের সাহায্যে তাঁর সৃষ্টির সকল অনিষ্ট ও ক্ষতি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
ফজিলত: যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পাঠ করবে, কোনো প্রাণী বা বিষাক্ত পোকা তাকে ক্ষতি করতে পারবে না।
ব্যথার স্থানে হাত রেখে ৭ বারসহীহ বুখারী: ৫৭৪২ | সহীহ মুসলিম: ২১৯১

শারীরিক ব্যথা ও রোগের শেফা লাভের দোয়া

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রব্বান-নাস, আযহিবিল বা'স, ইশফি আন্তাশ-শাফী, লা শিফা-আ ইল্লা শিফাউকা, শিফা-আন লা ইয়ুগা-দিরু সাক্বামা।
অর্থ: হে মানুষের রব আল্লাহ! আপনি কষ্ট দূর করে দিন, রোগীকে আরোগ্য দান করুন। আপনিই প্রকৃত আরোগ্যকারী। আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো নিরাময় নেই, এমন আরোগ্য দিন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না।
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ ব্যক্তিদের ওপর এই দোয়া পাঠ করে ফুঁক দিতেন।
সন্তানদের সামনে সকালে ও সন্ধ্যায় ১ বা ৩ বারসহীহ বুখারী: ৩৩৭১

বদনজর ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে শিশুদের হেফাজতের দোয়া

أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ

উচ্চারণ: উ‘ঈযুকুম্বা বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বা-নিঁও ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনিল লা-ম্মাহ।
অর্থ: আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে সমর্পণ করছি—সকল শয়তান ও বিষাক্ত কীট থেকে এবং সকল অনিষ্টকারী কুদৃষ্টি (বদনজর) থেকে।
ফজিলত: ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) তাঁর দুই পুত্র ইসমাইল ও ইসহাককে এই দোয়া পড়ে রক্ষা প্রার্থনা করতেন।
ঘরে প্রবেশের সময় প্রতিবারসুনানে আবু দাউদ: ৫০৯৬ | সহীহ মুসলিম: ২০১b

ঘরে প্রবেশ ও বাড়ি সুরক্ষার মাসনুন দোয়া (শয়তান প্রবেশ রোধে)

بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা, ওয়া ‘আলাল্লাহি রব্বিনা তাওয়াক্কালনা (এরপর ঘরে সালাম দেওয়া)।
অর্থ: আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম, আল্লাহর নামেই আমরা বের হয়েছিলাম এবং আমাদের রব আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করলাম।
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: যখন কোনো ব্যক্তি ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে এবং খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম নেয়, তখন শয়তান বলে: 'এখানে তোমাদের রাত কাটানোর কোনো জায়গা নেই এবং রাতের খাবারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।' (সহীহ মুসলিম: ২০১b)।
সকালে ও সন্ধ্যায় ৩ বার এবং রুকইয়াহ পানির ওপর পড়ে ফুঁক দিনমুওয়াত্তা ইমাম মালিক: ১৭৪২ | মুসনাদে আহমাদ: ১৫৪৬১ (সহীহ)

খাওয়ানো জাদু ও জাদুটোনার অপশক্তি বিনষ্টকারী দোয়া (জিবরীল আ.-এর শেখানো)

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَأَ وَبَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ

উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তিল্লাতী লা ইয়ুজাবিযুহুন্না বাররুঁও ওয়ালা ফা-জিরুম মিন শাররি মা খালাক্বা ওয়া যারাআ ওয়া বারাআ, ওয়া মিন শাররি মা ইয়ানযিলু মিনাস সামা-ই ওয়া মিন শাররি মা ইয়া‘রুজু ফীহা, ওয়া মিন শাররি মা যারাআ ফিল আরদ্বি ওয়া মিন শাররি মা ইয়াখরুজু মিনহা, ওয়া মিন শাররি ফিতানিল লাইলি ওয়ান-নাহার, ওয়া মিন শাররি কুল্লি ত্বা-রিক্বিন ইল্লা ত্বা-রিক্বান ইয়াত্বরুক্বু বিখাইরিন ইয়া রহমা-ন।
অর্থ: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহর সেই পরিপূর্ণ বাক্যসমূহের সাহায্যে—যাকে কোনো নেককার বা বদকার লোক অতিক্রম করতে পারে না। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন ও বিস্তার করেছেন তার অনিষ্ট হতে; আসমান হতে যা নাযিল হয় ও তাতে যা আরোহণ করে তার অনিষ্ট হতে; যমীনে যা ছড়িয়ে আছে ও তা হতে যা উৎপন্ন হয় তার অনিষ্ট হতে; রাত ও দিনের বিপর্যয় হতে এবং রাতের বেলায় হঠাৎ আগত সব অনিষ্টকারী হতে, কেবল কল্যাণ নিয়ে যে আসে সে ছাড়া—হে পরম দয়ালু আল্লাহ!
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জাদু ও ক্ষতি করতে যখন শয়তান ও জাদুকররা উদ্যত হয়েছিল, তখন জিবরীল (আ.) এসে এই দোয়া শেখান এবং জাদুকরদের আগুন নিভে যায় ও তাদের সকল ষড়যন্ত্র ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
একটি বোতলে পানিতে ৭ বার পাঠ করে ফুঁক দিন এবং ঘরের ৪ কোণায় স্প্রে করুনসূরা ইউনুস: ৮১-৮২ | সহীহ শারঈ রুকইয়াহ আমল

ঘরের সুরক্ষায় ও জিনের উপদ্রব হটাতে রুকইয়াহ পানি ছিটানোর দোয়া

فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ السِّحْرُ ۖ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ

উচ্চারণ: ফালাম্মা আলক্বাও ক্বালা মূসা মা জি'তুম বিহিস সিহ্র, ইন্নাল্লাহা সাইউবত্বিলুহ, ইন্নাল্লাহা লা ইউস্লিহু ‘আমালাল মুফসিদীন।
অর্থ: অতঃপর যখন তারা জাদু নিক্ষেপ করল, তখন মূসা (আ.) বললেন: তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা তো জাদু! নিশ্চয়ই আল্লাহ একে এখনি বাতিল ও ধ্বংস করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজকে সফল করেন না।
ফজিলত: কোনো ঘরে অপশক্তির উপদ্রব বা সিহরের কুপ্রভাব দেখা দিলে এই আয়াত রুকইয়াহ পানিতে পড়ে ঘরের প্রতিটি রুমের ওপরের চার কোণায় স্প্রে করলে ঘর পবিত্র ও অপশক্তিমুক্ত হয় (বাথরুম বাদে)।