রুকইয়াহ কী এবং ইসলামে এর বিধান: শিরকী ঝাড়ফুঁক বনাম শারঈ রুকইয়াহ
রুকইয়াহ (الرقية) একটি আরবি শব্দ, যার পারিভাষিক অর্থ হলো কুরআনুল কারীমের আয়াত, আল্লাহর আসমাউল হুসনা (সুন্দর নামসমূহ) ও গুণাবলী এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণিত সহীহ দোয়াসমূহ পাঠ করে শারীরিক ও মানসিক আরোগ্য প্রার্থনা করা।
জাহেলী যুগে মানুষ বিভিন্ন ধরনের অর্থহীন মন্ত্র, দেব-দেবী বা জিনের নাম নিয়ে ঝাড়ফুঁক করত। ইসলাম আসার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিরকমুক্ত ঝাড়ফুঁকের অনুমতি দেন। সহীহ মুসলিমের এক হাদিসে আওফ ইবনে মালিক (রা.) বলেন: আমরা জাহেলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এ বিষয়ে কী বলেন? তিনি বললেন: 'তোমাদের ঝাড়ফুঁকের বাক্যগুলো আমার কাছে উপস্থাপন করো। যে ঝাড়ফুঁকে শিরক নেই, তাতে কোনো দোষ নেই।' (সহীহ মুসলিম: ২২০০)
হাফেয ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.) শারঈ রুকইয়াহ বৈধ হওয়ার জন্য ৩টি শর্ত উল্লেখ করেছেন: ১. আল্লাহর কালাম (কুরআন) বা তাঁর নাম ও গুণাবলী দ্বারা হতে হবে। ২. আরবি ভাষায় অথবা অন্য কোনো বোধগম্য ও অর্থবহ ভাষায় হতে হবে। ৩. এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, রুকইয়াহর নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই; শেফা দেওয়ার একমাত্র মালিক আল্লাহ তা'আলা।
পক্ষান্তরে যেসব ঝাড়ফুঁকে কুফরি সংকেত, তাবীজ, অজানা ভাষা, জিনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা বা শরিয়ত বিরোধী আচার থাকে তা স্পষ্ট হারাম ও শিরক।
আপনার কি রুকইয়াহ বা আত্মরক্ষা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন আছে?
আমাদের স্বয়ংক্রিয় লক্ষণ চেকার ব্যবহার করে পরীক্ষা করতে পারেন অথবা সরাসরি অভিজ্ঞ রাক্বীর পরামর্শ নিতে পারেন।