সকল আর্টিকেলে ফিরে যানঘর ও পরিবার সুরক্ষা

বাড়ি বন্ধ করার কবিরাজি কুসংস্কার বনাম কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক ঘর সুরক্ষার শারঈ আমল

লেখক: ইসলামিক দাওয়াহ ও ফিকহ বিভাগ, সুন্নাহলাইফ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬পড়ার সময়: ৭ মিনিট
শারঈ পর্যালোচনা: শারঈ বোর্ড, সুন্নাহলাইফ কেয়ার

আমাদের সমাজে প্রচলিত 'বাড়ি বন্ধ করা' বা ঘর সুরক্ষিত করার নামে কবিরাজরা যেসব কর্মকাণ্ড করে—যেমন: ঘরের চার কোণায় লোহার পেরেক পোঁতা, তাবীজ বা হাড় পুঁতে রাখা, হলুদ-সরিষা পড়া ছিটানো—এগুলো সম্পূর্ণ কুফরি ও স্পষ্ট শিরক। যে ব্যক্তি কোনো পেরেক বা তাবীজকে ঘরের রক্ষক মনে করে, সে আল্লাহর ওপর থেকে তাওয়াক্কুল হারিয়ে ফেলে শয়তানের ফাঁদে পা দেয়। কোনো জড় পদার্থ কাউকে রক্ষা করতে পারে না, নিরাপত্তার একমাত্র মালিক পরাক্রমশালী আল্লাহ তা'আলা।

কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মোতাবেক ঘর ও পরিবার সুরক্ষার ৫টি পরীক্ষিত সুন্নাহ আমল:

১. ঘরে নিয়মিত সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করা: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: 'তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ে রেখো না। নিশ্চয় যে ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘর থেকে শয়তান পলায়ন করে।' (সহীহ মুসলিম: ৭৮০)। প্রতি ৩ দিন অন্তর ঘরে সূরা বাকারা উচ্চকণ্ঠে নিজে তিলাওয়াত করুন অথবা সাউন্ডবক্সে বাজিয়ে শুনুন।

২. ঘরে প্রবেশের সময় 'বিসমিল্লাহ' ও সালাম দেওয়া: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে এবং খাবার খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলে, তখন শয়তান (তার বাহিনীকে) হতাশ হয়ে বলে—'এখানে তোমাদের রাত কাটানোর কোনো জায়গা নেই এবং রাতের খাবারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই।' (সহীহ মুসলিম: ২০১b)।

৩. সূর্যাস্তের সময় দরজা-জানালা বন্ধ করা ও বিসমিল্লাহ বলা: সহীহ হাদিসে এসেছে, মাগরিবের সময় শয়তান ও জিনরা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ সময় বাচ্চাদের ঘরের ভেতরে রাখুন এবং 'বিসমিল্লাহ' বলে ঘরের দরজা ও জানালা বন্ধ করে দিন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: শয়তান বিসমিল্লাহ বলে বন্ধ করা দরজা খুলতে পারে না (সহীহ বুখারী: ৩২৮০)।

৪. রুকইয়াহ পানি ও লবণের স্প্রে পদ্ধতি: একটি স্প্রে বোতল বা পানির পাত্রে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা ইউনুস (৮১-৮২), এবং ৩ কুল ৭ বার পড়ে ফুঁক দিন। পানিতে সামান্য খাবার লবণ মেশান। এরপর আসরের পর ঘরের প্রতিটি কক্ষের ওপরের চার কোণায় এবং দরজার চৌকাঠে হালকাভাবে স্প্রে করুন। (সতর্কতা: বাথরুম বা অপবিত্র স্থানে রুকইয়াহর পানি কখনোই ছিটানো যাবে না)।

৫. ঘরকে রহমতের ফেরেশতাদের জন্য উন্মুক্ত রাখা: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: 'যে ঘরে জীবজন্তুর ছবি, প্রতিকৃতি বা কুকুর থাকে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।' (সহীহ বুখারী: ৩২২৭)। ঘর থেকে সকল প্রাণীর ছবি, ভাস্কর্য, পুতুল এবং গান-বাজনা সম্পূর্ণ বর্জন করুন। যে ঘরে রহমতের ফেরেশতা থাকেন, সেখানে শয়তান কখনোই স্থায়ী হতে পারে না।

আপনার কি রুকইয়াহ বা আত্মরক্ষা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন আছে?

আমাদের স্বয়ংক্রিয় লক্ষণ চেকার ব্যবহার করে পরীক্ষা করতে পারেন অথবা সরাসরি অভিজ্ঞ রাক্বীর পরামর্শ নিতে পারেন।